5/1,South Banasree Dhaka
প্রতিটি মানুষের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো। প্রত্যেকের ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় আমরা নিজের অজান্তেই এমন কিছু ভুল করে ফেলি, যা ত্বকের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকে আমরা জানব ১০টি সাধারণ স্কিনকেয়ার ভুল সম্পর্কে এবং সেগুলো কিভাবে ঠিক করবেন সে সম্পর্কে
অনেকে আমরা মুখের ত্বক শুষ্ক না তৈলাক্ত, সেটা বোঝার চেষ্টা না করেই যেকোনো স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে ফেলি। যার ফলে আমাদের স্কিনে র্যাশ, ব্রণ বা অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব দেখা দিতে পারে।
প্রথমে আমাদের দেখতে হবে স্কিনটা কেমন হয়ে আছে। অর্থাৎ স্কিন টাইপ নির্ধারণ করতে হবে। যেমনঃ স্কিনটা Dry, Oily, Combination, Sensitive হয়ে আছে কিনা দেখতে হবে।। তারপর সেই অনুযায়ী ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার ও টোনার বাছাই করতে হবে। বর্তমানে অনেক অনলাইন টেস্টেও স্কিন টাইপ নির্ধারণ করা যায়।
বেশিরভাগ সময়ই আমরা মনে করি যে সানস্ক্রিন কেবল রোদে বের হলেই প্রয়োজন। কিন্তু আমরা জানিনা যে UV রশ্মি শুধু বাইরে নয়, জানালার কাচ বা ঘরের আলোতেও প্রভাব ফেলে।
প্রতিদিন SPF ৩০ বা তার বেশি মানের ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, এমনকিও বাড়িতেও। প্রয়োজন বোধে দিনে ২-৩ বার রি-অ্যাপ্লাই করতে পারেন।
মনে করা হয় ত্বকে নিয়মিত স্ক্রাব করলে ময়লা দূর হয়, ফলে অনেকেই প্রতিদিন স্ক্রাব ব্যবহার করেন। কিন্তু নিয়মিত স্ক্রাব করা উচিৎ নয়, এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল উঠে যায়, যা আমাদের স্কিনকে রুক্ষ করে তোলে।
ত্বকের জন্য সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার হালকা স্ক্রাবার ব্যবহার করুন। ত্বকের উপর শক্ত ঘষাঘষি এড়িয়ে চলুন। কারণ অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন স্কিন ব্যারিয়ার নষ্ট করে দিতে পারে।
একটা ক্লান্ত রাতের পরে অনেকেই মেকআপ বা ধুলাবালি মুখে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন, যা রোমছিদ্র বন্ধ করে দিয়ে ব্রণ ও স্কিন ইনফেকশনের কারণ হয়।
ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেকআপ রিমুভার বা জেন্টল ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ পরিষ্কার করুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
ত্বকের বাইরের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি আমাদের ভেতর থেকেও যত্ন নেওয়া জরুরি। পানি কম খেলে আমাদের ত্বক শুষ্ক, প্রাণহীন ও মলিন দেখায়।
প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করুন। পানি শরীরের টক্সিন দূর করে, যার ফলে ত্বক হয় আরও উজ্জ্বল।
বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের মানুষরা মনে করেন যে ময়েশ্চারাইজার দিলে স্কিন আরও অয়েলি হয়ে যায়।
প্রত্যেক ত্বকেরই ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন। তৈলাক্ত স্কিনের জন্য অয়েল-ফ্রি ও জেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি স্কিনের হাইড্রেশন ঠিক রাখে।
নতুন ট্রেন্ড দেখে প্রোডাক্ট পরিবর্তন করাটা একটি সাধারণ অভ্যাস। এতে ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
একটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করে কমপক্ষে ৪–৬ সপ্তাহ সময় দিন। সময় না দিলে সেটার কার্যকারিতা বোঝা সম্ভব না।
চোখের চারপাশের ত্বক খুবই সেনসিটিভ। অনেকে এই অংশে আলাদা কোনো কেয়ার নেন না। ফলে দেখা দেয় ডার্ক সার্কেল, ফাইন লাইনস।
নিয়মিত আই ক্রিম ব্যবহার করুন। হালকা আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে লাগান, কিন্তু ঘষাঘষি করা যাবে না।
ব্যায়াম বা ঘামার পর মুখ না ধুয়ে রাখলে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া জমে রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়, ফলে অনেক সমঢ দেখা দেয় ব্রণ ও র্যাশ।
শরীরের ঘাম ঝরার পর ঠান্ডা বা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। চাইলে মাইল্ড ফেসওয়াশও ব্যবহার করতে পারেন।
অনেক সময় ঘুম কম হলে শরীরের মতো ত্বকেও ক্লান্তির ছাপ পড়ে। দেখা যায় ডার্ক সার্কেল, পাফিনেস এবং স্কিন টোন অমসৃণতা।
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম খুবই প্রয়োজন। ঘুমানোর আগে স্কিনকেয়ার রুটিন ফলো করতে হবে। ত্বক ঠিক মতো রিকভার করতে পারে।
ত্বকের যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। উপরের সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চললে এবং নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করলে ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, স্বাস্থ্যবান ও দীপ্তিময়।
প্রশ্ন: প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা কি আবশ্যক?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা আবশ্যক। এমনকি ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
প্রশ্ন: ত্বক ব্রণপ্রবণ হলে কী ধরণের স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলা উচিত?
উত্তর: ত্বক ব্রণপ্রবণ হলে অয়েল-ফ্রি, নন-কমেডোজেনিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন এবং অতিরিক্ত স্ক্রাবিং এড়িয়ে চলুন।